রানা প্লাজায় মা হারিয়েছি, তাই প্রকৌশলী হবো

প্রতিনিধি | জাতীয়

সোমবার ২৪ এপ্রিল ২০১৭|০৬:৪৮:৪৮ মি.

রানা প্লাজায় মা হারিয়েছি। তাই লেখাপড়া শিখে প্রকৌশলী হবো। তাহলে এমন দুর্ঘটনা আর ঘটবে না। এভাবে বলছিল দিনাজপুরের মহেশপুর এলাকার মরিয়ম খাতুনের সন্তান। মাকে খুঁজে পাইনি। বাবা শ্রমিকের কাজ করেন। তিনি আমাদের খোঁজ নেন না।

 

সৌরভ কুমার রায় নামে আরেক শিশু জানায়, তার মা রানা প্লাজায় আহত হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। তার ইচ্ছে ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে তার মা’র পাশাপাশি রানা প্লাজায় আহত অন্যান্য রোগির চিকিৎসা করা। 

এভাবে নিজেদের মনের স্বপ্ন ভুননের কথা বলছিল ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে হতাহত শ্রমিকদের সন্তানরা। দেশে প্রথম ও বিশ্বে ৩য় বৃহত্তম এ শিল্প দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৩৬ জন শ্রমিকের প্রাণহানি ঘাটে। আহত হয় ২ হাজার ৪৩৮ জন শ্রমিক। ধুলোয় মিশে যায় হাজারো পরিবারের সাজানো সংসার। তছনছ হয়ে যায় একসকল পরিবারের রেখে যাওয়া সন্তানদের ভবিষ্যৎ। যাদের বাবা-মা ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম।

বাবা-মা হারা এসকল সন্তানদের মধ্যে ৪৪ জন সন্তানদের ঠাঁই দিয়েছে বেসরকারি সংস্থা অর্কা (ওল্ড রাজশাহী ক্যাডেট এসোসিয়েশন) হোমস। রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে নিহত শ্রমিকদের সন্তানদের দেশের বিভিন্ন জায়গায় থেকে খুঁজে এনে লালন পালন করছে সংস্থাটি। এদের মধ্যে ২৩ জন ছেলে ও ২১ জন মেয়ে রয়েছে। এদের পরিচর্যায় নিয়োজিত রয়েছে সাত জন কর্মকর্তা কর্মচারি। লেখাপড়া, খেলাধুলা, বিনোদন ও মাতৃস্নেহে বেড়ে উঠছে এসব শিশু।

২০১৪ সালের ২২ ডিসেম্বর গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে অর্কা হোমসের পথচলা শুরু হয়। তিনতলা ভবনের হোমসটিতে লাইব্রেরি ও বিনোদনের ব্যবস্থাসহ রয়েছে বিশাল খেলার মাঠ। রানা প্লাজার এসব শিশুদেরকে মাতৃস্নেহে দেখাশোনা করেন কেয়ারটেকার নুর জাহান বেগম। যাকে শিশুরা মা বলে ডাকে। 

অর্কা হোমসের সহ-সভাপতি মো. জাহিদুল হক। তিনি বলেন, রানা প্লাজা ট্রাজেডির হতাহত পরিবারের যে শিশুরা এখানে রয়েছে তাদের লেখাপড়া, থাকা-খাওয়াসহ সকল খরচ অর্কা হোমস থেকে বহন করা হচ্ছে। এছাড়া এদের লেখাপড়ার জন্য পাশেই রয়েছে হোসেনপুর মুসলিম একাডেমি। যেখানে এসব শিশুরা তৃতীয় শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করছে। এসব শিশুদের লেখাপড়া করা হচ্ছে ক্যাডেট কলেজের মতো করে। এখানে থাকা শিশুরা লেখা-পড়া করে মানুষের মতো মানুষ হতে চায়। আমরা তাদের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা চালাচ্ছি। পাশাপাশি মেয়েদের বিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমরা নিবো। 

 

পাঠকের মন্তব্য Login Registration